ফ্যাকো অপারেশন

ফ্যাকো সার্জারি (Phacoemulsification) হলো চোখের ছানি (Cataract) অপারেশনের আধুনিক এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে কোনো রকম সেলাই বা বড় কাটার প্রয়োজন হয় না।

​নিচে ফ্যাকো সার্জারি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

​এটি কীভাবে কাজ করে?

​১. ছোট ছিদ্র (Micro-incision): চোখের এক পাশে মাত্র ২ থেকে ৩ মিলিমিটারের একটি অত্যন্ত ছোট ছিদ্র করা হয়।

২. আল্ট্রাসনিক তরঙ্গ (Ultrasonic Waves): একটি বিশেষ প্রোব বা যন্ত্র চোখের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে আল্ট্রাসনিক তরঙ্গের সাহায্যে ছানি পড়া ঝাপসা লেন্সটিকে গলিয়ে ফেলা হয় এবং তরল করে শুষে বের করে নেওয়া হয়।

৩. কৃত্রিম লেন্স (IOL – Intraocular Lens): ছানি বের করার পর সেই ছোট্ট ছিদ্রটি দিয়েই একটি ভাঁজ করা কৃত্রিম লেন্স (Foldable Lens) চোখের ভেতরে বসিয়ে দেওয়া হয়। লেন্সটি ভেতরে গিয়ে নিজে নিজেই খুলে নিজের স্থান করে নেয়।

​ফ্যাকো সার্জারির সুবিধাসমূহ

  • সেলাইবিহীন (Stitchless): অপারেশনে কোনো সেলাই লাগে না, তাই চোখ খচখচ করার বা সুতো কাটার ঝামেলা থাকে না।
  • রক্তপাতহীন ও ব্যথামুক্ত: সাধারণত ইনজেকশন না দিয়ে ড্রপের মাধ্যমেই চোখ অবশ করা হয়, ফলে কোনো রক্তপাত বা ব্যথা হয় না।
  • দ্রুত সুস্থতা: অপারেশনের পর দিন থেকেই রোগী সাধারণত স্বাভাবিক কাজকর্ম (যেমন: টিভি দেখা, পড়ালেখা) করতে পারেন।
  • হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই: এটি একটি ডে-কেয়ার পদ্ধতি। অপারেশনের ১-২ ঘণ্টার মধ্যেই রোগী বাড়ি ফিরে যেতে পারেন।
  • কম চশমার নির্ভরতা: আধুনিক মাল্টিফোকাল বা টোরিক লেন্স ব্যবহারের ফলে অপারেশনের পর দূরের ও কাছের দেখার জন্য চশমার ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যায়।

​অপারেশন পরবর্তী কিছু সাধারণ সতর্কতা

  • ​ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চোখের ড্রপ ব্যবহার করতে হবে।
  • ​কয়েকদিন চোখে সরাসরি পানি বা সাবান লাগানো যাবে না।
  • ​চোখ রগড়ানো বা চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ​বাইরে বের হলে সুরক্ষামূলক চশমা (কালা চশমা) ব্যবহার করা ভালো।

​ছানি যদি খুব বেশি পেকে বা শক্ত হয়ে যায়, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফ্যাকো সার্জারি করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এই বিষয়ে কি আপনার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রশ্ন আছে বা কোনো লেন্সের ব্যাপারে জানতে চাচ্ছেন?

Click to Chat
Scroll to Top