ICL (Implantable Collamer Lens) হলো এমন একটি রিফ্র্যাকটিভ চোখের অপারেশন, যেখানে চোখের ভেতরে একটি বিশেষ কৃত্রিম লেন্স বসানো হয় দৃষ্টিশক্তি ঠিক করার জন্য। এটি সাধারণত যাদের উচ্চ মাত্রার মায়োপিয়া (Minus Power), হাইপারোপিয়া (Plus Power) বা অ্যাস্টিগমাটিজম আছে এবং যারা LASIK-এর জন্য উপযুক্ত নন, তাদের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।
ICL অপারেশন কীভাবে করা হয়?
চোখে ড্রপ দিয়ে অবশ করা হয়।
কর্নিয়ায় একটি ছোট ছিদ্র করা হয়।
ভাঁজ করা ICL লেন্সটি চোখের ভেতরে আইরিসের (চোখের রঙিন অংশ) পিছনে এবং প্রাকৃতিক লেন্সের সামনে স্থাপন করা হয়।
সাধারণত সেলাই লাগে না।
পুরো প্রক্রিয়া প্রায় ১৫–৩০ মিনিট সময় নেয়।
ICL-যাদের জন্য উপযুক্ত?
সাধারণত ২১–৪৫ বছর বয়সী ব্যক্তি।
উচ্চ মায়োপিয়া (যেমন -6D থেকে -20D বা তার বেশি)।
কর্নিয়া পাতলা হওয়ায় LASIK করা সম্ভব নয়।
গত ১ বছর ধরে চোখের পাওয়ার স্থিতিশীল।
সুবিধা
উচ্চ পাওয়ার সংশোধনে খুব কার্যকর।
কর্নিয়া কাটতে হয় না।
লেন্স প্রয়োজনে ভবিষ্যতে অপসারণ বা পরিবর্তন করা যায়।
অনেক রোগী অপারেশনের পর খুব ভালো দৃষ্টিশক্তি পান।
সম্ভাব্য ঝুঁকি
চোখের চাপ (Glaucoma) বেড়ে যাওয়া।
ছানি (Cataract) হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা বৃদ্ধি।
সংক্রমণ (খুব বিরল)।
রাতের বেলা হ্যালো বা গ্লেয়ার দেখা।
লেন্সের অবস্থান পরিবর্তন হওয়া (বিরল)।
অপারেশনের পর
কয়েক দিনের মধ্যে স্বাভাবিক কাজ করা যায়।
চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী আই ড্রপ ব্যবহার করতে হয়।
নিয়মিত ফলো-আপ জরুরি।
বাংলাদেশে ICL অপারেশনের খরচ হাসপাতাল ও ব্যবহৃত লেন্সের ধরন অনুযায়ী সাধারণত প্রতি চোখে প্রায় ১.৫–৩.৫ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।
আপনার বর্তমান চশমার পাওয়ার (Minus/Plus কত) এবং বয়স জানালে আমি বলতে পারি ICL, LASIK নাকি SMILE—কোনটি আপনার জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি উপযুক্ত হতে পারে।
